
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘোষণা আসার পরপরই ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা বিমানবন্দরটিতে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকাভুক্ত রয়েছে। তাই বিমান সংস্থা, যাত্রী এবং বিমানবন্দরের কর্মীদের স্থাপনাটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই বড় ধরনের হামলার পর নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরটির সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের বিমান অবকাঠামোয় এটি ছিল অন্যতম বড় হামলার ঘটনা। এর ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় পরিস্থিতির জটিলতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে বন্ধের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। বিশেষ করে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির দুটি টার্মিনাল সীমিত আকারে চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে টার্মিনাল-১ থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং টার্মিনাল-২ থেকে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এমন হুমকির পর ফ্লাইট চলাচলের স্বাভাবিকতা ফেরানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রী ও এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এই নিরাপত্তা ঝুঁকি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুটি টার্মিনাল সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর অভিযানও চলমান রয়েছে। এসব পাল্টাপাল্টি সামরিক কর্মকাণ্ড সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করছে। রিয়াদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ফ্লাইট চলাচলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
